মঙ্গলবার । ১৬ই জুন, ২০২৬ । ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩

লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, আটক ৩

গেজেট প্রতিবেদন

লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সভা কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই সেখানে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশী। এনসিপির নেতাকর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে এনসিপির সমর্থক ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ জুন) বিকালে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সভা এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আটক তিনজনের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের সফর কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের কর্মকাণ্ড ছিল একই সঙ্গে কাপুরুষোচিত এবং প্রত্যাশিত। আড়াল থেকে এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে দ্রুত সরে পড়া- এটি আবারও প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো ভয়ভীতি প্রদর্শন, অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন